শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

সেলিম ওসমান আসলে কার, লাঙ্গল নাকি নৌকার!

মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ একেএম সেলিম ওসমান আসলে কার, লাঙ্গল নাকি নৌকার এমন প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীসহ নারায়ণগঞ্জবাসীর। বড় ভাই নাসিম ওসমানের অকাল মৃত্যুতে রাতারাতি উপ-নির্বাচনে ব্যবসায়ী থেকে এমপি বনে গেলেন তিনি। জাতীয় পাটির লাঙ্গল মাথায় নিয়ে এমপি হওয়ার পর গান গাইতে শুরু করেন নৌকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর মন ভেঙ্গে যায় অনেক নেতাকর্মীদের। কিন্তু যখন ওই আসনে উপনির্বাচনে সেলিম ওসমানকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন দেয়া হল তখন আশার সঞ্চার হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে সেই আশা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। তিনি এমপি নির্বাচিত হবার পর থেকে তৃনমূল নেতাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ না রেখে সখ্যতা গড়ে তোলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতাদের সাথে। বন্ধ করা হলো জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়টিকেও। গুনগান গাইতে শুরু করেন নৌকার। এমনকি অনেক সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের কথা না বলে প্রশংসা করতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে আসলে সেলিম ওসমান কোন দলের? এছাড়া শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্চনার ঘটনায় সমালোচনাসহ নারায়ণগঞ্জ’র অনেক সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হলেও মুখ খুলতে সাহস পাননা কেউই।

নারায়ণগঞ্জ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা নতুন করে সেলিম ওসমানকে নিয়ে আশার আলো দেখে। কিন্তু ‘বিধি বাম’ সেলিম ওসমান এমপি হওয়ার জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়টিকেও হারাতে হয় নেতাকর্মীদের। জেলার দু-একজন নেতা ছাড়া তার সাথে বেশীর ভাগই দেখা যায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে। বন্দরে সেলিম ওসমানের অর্থায়নে নির্মিত তিনটি স্কুল উদ্বোধন করেন ২৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে আসেন তিনি। ছিলেন না কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির কোন নেতা। এসময়ও তিনি বেশ সমালোচনার পাত্র হন।

এর আগে ২৬ জানুয়ারি জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বন্দরে পীর জাকির শাহ এর ওরশে আসেন। কিন্তু উপস্থিত ছিলেন না সেলিম ওসমান। ১৭ ফেব্রুয়ারী বন্দরে পারটেক্স গ্রুপের একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। সেই অনুষ্ঠানে গিয়ে উপস্থিত হন সেলিম ওসমান। সর্বশেষ ১৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ এতো বছরের যা করেনি তা করে দেখালেন সেলিম ওসমান। ৫০০ পাউন্ড ওজনের বিশাল কেক কেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করেন।

সেলিম ওসমান পরিস্কার বুঝতে পারলেন শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙ্গনের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবে না। তাই তরিগড়ি করে গত ৩১ মার্চ ফতুল্লা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসেন। এরশাদকে দেখাতে দাওয়াত করেন প্রথমবারের মত জাতীয় পার্টির জেলা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়নের নেতাদের। মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সেখানে তিনি এরশাদের উপস্থিতিতে দলীয় নেতাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, আমি যদি কোন অন্যায় করে থাকি তা হলো, আমি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর সঙ্গে গত চার বছর যাবত প্রচন্ড পরিমানে অন্যায় করেছি। জাতীয় পার্টির নেতাদের মূল্যায়ন করি নাই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাংসদ সেলিম ওসমান দুই নৌকায় পা রেখেছেন। যে কোন সময় সেখান থেকে সটকে পরতে পারেন। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি আসলে কোন দলের হয়ে কাজ করতে চান। মানুষকে বিভ্রান্তি না করে একটি দলের হয়ে একাদশ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহন করবেন বলেও মনে করছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com